মহাস্থানগড়ের প্রত্নসম্পদ বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে

Monday, February 14, 2011

ঐতিহাসিক স্থান বগুড়ার মহাস্থানগড়ের প্রত্নসম্পদ বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে! মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন বিভিন্ন স্থাপনা থেকে দিনে-দুপুরে ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সেই ইট আবার বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভ্যান ৩০-৩৫ টাকায়।

মহাস্থানগড় এলাকার দুর্লভ প্রত্নসম্পদ থেকে লুণ্ঠিত আকারে বড় ও কারুকাজসম্পন্ন এসব ইট দিয়ে তৈরি হয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়ি। কয়েক বছর ধরে এসব অপকর্ম চললেও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।
এদিকে মহাস্থানগড়ের প্রত্নসম্পদ
ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় জমি দখলের অপরাধে মামলা দায়ের করার জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কেউ পুরাকীর্তি নষ্ট করতে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত সোমবার মহাস্থানগড়ের শাহ সুলতান বলখি (রহ.) মাজার শরিফের আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়িই তৈরি হয়েছে প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রত্ন ইট দিয়ে। যে যার ইচ্ছেমতো মাটি খুঁড়ে বের করেছে ঐতিহাসিক সব নিদর্শন। এরপর তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাড়িঘর। অনেক বাড়িতে প্লাস্টার (আস্তর) করা হয়নি, যাতে প্রত্ন ইটের গায়ের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দৃশ্যমান। বিশাল আকৃতির একেকটি বাড়িতে সেই প্রাচীন আমলের হাজার হাজার ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পুণ্ড্রনগরের মহামূল্য পোড়া ইটের কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে। কিনে নেওয়া ছাড়াও কিছু ইট জমিতে কাজ করতে গিয়ে লাঙ্গলের ফলায় উঠে এসেছে। কিছু চুরি করে আনা হয়েছে খনন করা ঢিপি এবং পুণ্ড্রনগরীর প্রাচীর থেকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর স্থানীয় অধিবাসীদের অজ্ঞতায় প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে এই অমূল্য সম্পদ।
স্থানীয় দোকানদার নুরুল ইসলাম জানান, এলাকায় রফিকুল নামের এক যুবক পুরনো এসব ইট বিক্রি করে। প্রতি ভ্যান ইটের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। এক ভ্যানে সর্বোচ্চ ২০০টি ইট বহন করা যায়। এ ছাড়া এই ইট বিক্রির সঙ্গে আরো সংশ্লিষ্ট রয়েছে সফিকুল, মিরাজুল ও আকবর। সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে প্রত্নসম্পদ রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে প্রকাশ্যে ইট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তার পরও লুকিয়ে এসব ইট বিক্রি করা হচ্ছে। গফুর নামের আরেকজন মুদি দোকানি জানান, মাটি খুঁড়ে শুধু ইট নয়, আরো পাওয়া যায় দুর্লভ মূর্তি, সোনার পাত্রের ভাঙা অংশ। এগুলো কখনো পাওয়া গেলে তার ভাগ্য ফিরে যায়। কখনোই এসব ব্যাপার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয় না। রাতের আঁধারে চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ।
মহাস্থানের পাশে মথুরা এলাকায় প্রত্নতত্ত্ব ইট দিয়ে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন আবদুল ওয়াহাব নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ভ্যানে করে এসব ইট এনেছেন। কিনেছেন ৪০ টাকা ভ্যান হিসেবে। প্রায় ১০ হাজার ইট লেগেছে তাঁর তিন কক্ষের বাড়িটি বানাতে। কেন এই ইট ব্যবহার করেছেন, এগুলোর প্রত্নতাত্তি্বক মূল্য কী সেটা জানেন_এমন প্রশ্নের উত্তরে ওয়াহাব জানান, 'এই ইটাই কিনা লাভ। বেশি দাম দিয়্যা ইটা কিনবার যামু ক্যা। হামাক্যেরোক কেউ কুনুদিন ম্যানা করেনি যে, এই ইটা দিয়্যা বাড়ি করার যাবি না। তালে হামাকেরে কী দোষ।' তিনি জানান, মাত্র ১৫ দিন হলো তাঁর বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে। তিনি এই বাড়ি ভাড়া দেবেন।
এলাকা ঘুরে আরো দেখা গেছে, মাজারসংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা কাসেম উদ্দিন, রনজু মিয়া, আবদুল মান্নান, কাসেম আলী, মীর আলম ও সবুর মিয়ার বাড়িও প্রত্নসম্পদের ইট দিয়ে তৈরি। গড়ের আশপাশে এ ধরনের আরো অর্ধশতাধিক বাড়ি রয়েছে। তবে কোনো বাড়িতে গিয়ে বাড়ির মালিককে পাওয়া যায়নি। এসব বাড়ি ভাড়া দিয়ে মালিকরা অন্যত্র থাকেন।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় অঙ্কন কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, সংরক্ষিত এই এলাকার বাসিন্দাদের ওপর তাঁদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রত্নসম্পদের ইট ব্যবহারে বাধা দিতে গেলে তাঁদের পাল্টা হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, মহাস্থান এলাকায় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকলেও তিনি সেটা খনন করে এসব প্রত্ন নিদর্শন বিক্রি বা ব্যবহার করার অধিকার রাখেন না। এসব ঐতিহাসিক স্থানের সব নিদর্শনের মালিক সরকার। তিনি জানান, বর্তমানে মহাস্থানের যে সম্পত্তি রয়েছে তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সম্পত্তির মালিক বনে গেছে এলাকার কিছু মানুষ। সম্প্রতি সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এসব সম্পদ অধিগ্রহণ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনার। সেই মতো কাজ চলছে। অনেককে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে জমি ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে আফজাল হোসেন স্বীকার করেন, প্রত্নসম্পদ নষ্ট করে যেভাবে ঘরবাড়ি করা হচ্ছে তা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষার জন্য রীতিমতো হুমকি।
মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান (জিম্মাদার) নাহিদ সুলতানা কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁদের অবস্থা হয়েছে 'ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সরদার'-এর মতো। বিশাল এলাকার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাঁর রয়েছে মাত্র ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে আনসার রয়েছে মাত্র সাতজন, যা দিয়ে কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব নয়।
অঙ্কন কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, মহাস্থানগড়ের মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দখলে রয়েছে। বাকি ৮০০ একরেরও বেশি এলাকা এখনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তহবিলের অভাবে সরকার এত দিন সেগুলো অধিগ্রহণ করেনি। পুরো এলাকাটি সে কারণে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই সেখানে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত স্থাপনা, বাড়িঘর, মসজিদ-মাদ্রাসা।
সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের ওপরই মাটিতে চাষাবাদ চলছে। নানা জাতের শীতকালীন সবজি ফলানো হয়েছে। আর জমি তৈরি করতে গিয়ে নিড়ানি দিয়ে মাটির নিচ থেকে পুরো অথবা ভাঙা ইট তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে আলের পাশে। এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন জানান, স্থানীয় লোকজন গড়ের ইটের গাঁথুনি দিয়ে বাড়ি তৈরি করছে। প্রশাসনের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কখনোই কোনো বাধা তাঁরা পাননি।
আওয়ামী লীগ নেতাকে হাইকোর্টের তিরস্কার
হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বলেছেন, মহাস্থানগড়ের প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ধ্বংসকারী অপরাধী ব্যক্তি যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তার ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। যে শ্রমিকরা এটা নষ্ট করেছে, খোঁড়াখুঁড়ি করেছে, তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাদের নিয়োগদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে।
আদালতের আদেশে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ইফতেখারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর এবং মহাস্থানগড় মাজার কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিন গতকাল সকালে হাইকোর্টে হাজির হন। আদালত ডিসি ও এসপিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিলেও আওয়ামী লীগ নেতাকে আজ মঙ্গলবার আবার আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন রক্ষা এবং প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ধ্বংসকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে ডিসি ও এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকে তিরস্কার করেন।
আদালত বগুড়ার জেলা প্রশাসককে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখিয়ে বলেন, 'পত্রিকায় এ রকম সংবাদ যেন আর লেখা না হয় সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে। শুধু বিচারক হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবেও এ দেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'
কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে মাজারসংলগ্ন মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, জানতে চান আদালত। জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ মসজিদটিও একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রত্নতত্ত্বের অংশ।
মহাস্থানগড়ের নিদর্শন রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচপিআরবি) গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রিট আবেদন দাখিল করে। এরপর মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনার আশপাশের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

মহাস্থানগড় রাতের আঁধারে তছনছ

Thursday, February 10, 2011

কয়েক দফায় আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলেও বগুড়ার মহাস্থানগড়ে খননকাজ বন্ধ হয়নি। পুরাকীর্তি ধ্বংসও চলছে অবিরত। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে এখন রাতের আঁধারে সেখানে কাজ চলছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে মহাস্থানগড়ের মূল মাজার এলাকায় উঁচু স্থানের ওপর ১৪০০ থেকে ১৫০০ শতাব্দীর পুরনো পুণ্ড্র গেট 'পুণ্ড্র নগরীর প্রবেশদ্বার' এলাকায় ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়।

রাতে শ্রমিক লাগিয়ে মাজার উন্নয়ন কমিটির পক্ষে এই খননকাজ চালানো হয়। খননের সময় সেখানে অমূল্য ব্ল্যাক স্টোন, প্রাচীন ইট, টেরাকোটা, মূর্তির ভাঙা অংশ বেরিয়ে এলে সেগুলো পাশেই একটি স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। গতকাল বুধবার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা মাটি খুঁড়ে নিদর্শনগুলো উদ্ধার করেন। তাঁরা জানান, রাত ১২টার পর শ্রমিক লাগিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মূল মসজিদ থেকে ১৫ ফুট দূরের এই অংশটি নামাজের স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে সেখানে খননকাজ করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। অথচ ঐতিহাসিক এই স্থানটিতে সব ধরনের খননকাজ বন্ধ এবং ওই স্থানটি সংরক্ষণের জন্য হাইকোর্ট থেকে দুই দফা নির্দেশনা এসেছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাইট পরিচালক রেজাউল করিম জানান, তিনি মাজার এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন। সেখানে এর আগেও অন্ধকারে খননকাজ হওয়ায় প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁকে ডিউটি করতে হয়। মঙ্গলবারও রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি ডিউটি করেছেন। তখন সেখানে কোনো শ্রমিক ছিল না। তিনি চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে শ্রমিকরা কাজ করে। কারণ সকালে এসে তিনি পুণ্ড্র গেটসংলগ্ন স্থানে বালি বিছানো দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজনকে (যাঁরা রাতে অবস্থান করেন) জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন, সেখানে রাতে শ্রমিকরা খনন কাজ করেছে।
মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান (জিম্মাদার) নাহিদ সুলতানা কালের কণ্ঠকে জানান, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, যারা খনন কাজ করেছে তারা প্রথমে চিন্তা করেনি সেখানে প্রাচীন পুরাকীর্তি থাকতে পারে। পুরনো নিদর্শন বের হয়ে আসতেই সেগুলো রাতেই সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। আগে খনন করা একটি গর্তের মধ্যে নিদর্শনগুলো মাটি চাপা দেয় তারা। গতকাল সকালে নতুন মাটি দেখে সন্দেহ হলে তারা মাটি সরিয়ে ব্ল্যাক স্টোন, প্রাচীন ইট, টেরাকোটা ও মূর্তির ভাঙা অংশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর থেকে মহাস্থান মাজার উন্নয়ন কমিটির নেতারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনাটি প্রকাশ না করতে তাঁদের মাঠকর্মীদেরও বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বারবার খননের জন্য টার্গেট করা স্থানটির নিচেই লুকিয়ে আছে পুণ্ড্র নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভবন। কারণ মূল মাজার ও মসজিদসংলগ্ন টিলার মতো উঁচু জমিটি মূল পুণ্ড্র নগরীর অংশ। এখানেই থাকতেন রাজা এবং তাঁর লোকজন। ফলে রাজপ্রাসাদ ও প্রশাসনিক ভবন এখানেই থাকার কথা। তবে জমিটি মাজার কমিটির হলেও এর প্রত্নতাত্তি্বক গুরুত্ব নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এখানে ইচ্ছে করলেই কেউ খোঁড়াখুঁড়ি কিংবা অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁদের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতের আঁধারে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চালানো হচ্ছে। নাহিদ সুলতানা জানান, তিনি ঘটনাটি দেখার পর এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুণ্ড্র নগরীর একেবারে হার্ডপয়েন্টে হজরত শাহ সুলতান বলখি (রা.)-এর মাজারের পশ্চিম পাশে ২০ ফুট বাই ১০ ফুট এলাকায় খনন কাজ করা হয়। রাতে খনন কাজ প্রত্যক্ষ করেছেন সোলেমান আলী। তাঁর বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তিনি জানান, রাতে শ্রমিকরা যখন কাজ করে তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন জেনেছেন, উলি্লখিত স্থানে নামাজের জায়গা করার জন্য টাইলস বসানো হবে। এরপর বেশ কিছু পাথর ও ভাঙা ইটের অংশ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতেও তিনি দেখেছেন। স্থানীয় ভিক্ষুক মোকারম বলেন, 'শুনিচনু এটি বলে আর কাম হবি না। কিন্তুক আত্রে ক্যামা কাম করিচ্ছে। তালে ব্যান কিছু একটা করবি। হামাকেরে একটা থ্যাকার জ্যাগা লাগবি। সেডা করলে ভালোই হলোনি।'
গর্ত খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের একজনের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সে জানায়, রাতে সেসহ ১০ শ্রমিক কাজ করে। মজুরি নিয়েছে ২০০ টাকা করে। সে আরো জানায়, তাদের কাছে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আড়াই হাজার বছর আগের নিদর্শনের কোনো দাম নেই। এ কারণে তারা ভেঙে ফেলছে অবলীলায়।
মহাস্থান মাজার উন্নয়ন কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জানান, তাঁরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। কাজেই সেখানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চালানোর প্রশ্নই ওঠে না। বাইরের কেউ এই কাজ করতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জিন্নাহ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। কাজেই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছেন না। তবে উলি্লখিত স্থানটিতে তাঁরা বালি ফেলে রেখেছিলেন মসজিদের ভেতরে কাজ করার জন্য বলে তিনি স্বীকার করেন। মহাস্থান মাজার কমিটির সভাপতি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ইফতেখারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। কারা খুঁড়ল, এটা খুঁজে বের করতে শিবগঞ্জ থানার ওসিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফা মহাস্থানগড় এলাকায় খনন করে পুরাকীর্তি ধ্বংস করার কয়েকটি প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে প্রকাশ করা হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ে ঐতিহাসিক এই স্থানে নির্মাণ কাজ বন্ধ করাসহ মহাস্থানগড় সংরক্ষণ কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরও ধ্বংসযজ্ঞ থামেনি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য মতে, অতি প্রাচীনকালে বগুড়ার মহাস্থানগড় একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনকেন্দ্র ছিল। এই স্থানটি ধর্ম, শিল্প, সংস্কৃতি ছাড়াও আন্তপ্রাদেশিক বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় ১৫ শতক পর্যন্ত এই সমৃদ্ধ নগরী একটি সমৃদ্ধ জনপথ সৃষ্টি করেছিল। বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত স্থানটি বিখ্যাত মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন এবং অন্যান্য হিন্দু সামন্ত রাজারা প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষই এখন বগুড়া জেলার একটি গৌরবোজ্জ্বল সম্পদ।

জীবাশ্ম তুলে ধরছে বরফযুগের জীবনধারা

Tuesday, January 25, 2011

যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদরা কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের রকি মাউন্টেইনস থেকে সর্বশেষ তুষার যুগের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন। কোনো একটি একক জায়গা থেকে এযাবৎ পাওয়া জীবাশ্মের মধ্যে এসবের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এসব জীবাশ্মের বয়স দেড় লাখ থেকে ৫০ হাজার বছর।

রকি মাউন্টেইনসের স্নোমাস ভিলেজে নতুন জলাধার নির্মাণের জন্য বাঁধ তৈরির সময় ঠিকাদাররা খননকাজ করতে গিয়ে এই বিপুল জীবাশ্মের সন্ধান পান। তাঁরা প্রথম একটি 'ম্যামাথ' (অতিকায় দাঁতবিশিষ্ট বিলুপ্ত হস্তিবিশেষ)-এর কমপক্ষে ৬০০টি হাড় উদ্ধার করেন। এরপর জীবাশ্মবিদরা সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে আরো চারটি কলোম্বিয়ান 'ম্যামাথ', ১০টি আমেরিকান ম্যাসটাডান (আরেক ধরনের অতিকায় দাঁতবিশিষ্ট বিলুপ্ত হস্তিবিশেষ), চারটি বাইসন (বুনো মোষবিশেষ), দুটি তুষার যুগের হরিণ ও টাইগার স্যালামান্ডার (এক ধরনের সরীসৃপ)-এর জীবাশ্ম খুঁজে পান।
গবেষকরা আশা করছেন, আসন্ন বসন্তে এসব এলাকার বরফ গলে যাওয়ার পর তারা পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে আরো কিছু জীবাশ্ম উদ্ধার করতে পারবেন। লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এসব আবিষ্কারের মাধ্যম জানতে চেষ্টা করছেন, কিভাবে সে সময় এসব প্রাণী সে জায়গায় বসবাস করত এবং এই নির্দিষ্ট ভূতাত্তি্বক আদলটাই বা কী রকম ছিল।
এ আবিষ্কারকে 'রত্নসম্ভার' বলে মনে করেন কলোরাডোর 'ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্স'-এর কিউরেটর (জাদুঘর পরিচালক)। তিনি বলেন, 'এসব ফসিলের অনেকগুলোই আদি-অকৃত্রিম। খুবই ভালো সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এগুলো। অনেকগুলো হাড় এখনো সাদা বর্ণের, এমনকি যেসব জীবাশ্ম-উদ্ভিদের পাতা পাওয়া গেছে_সেগুলো এখনো সবুজ রয়েছে, গাছের শাখার বাকল পর্যন্ত ঝরে যায়নি।'
এই জাদুঘরের জীবাশ্মবিদরা মাত্র দুই সপ্তাহে এক একর ভূমি খনন করে সাতটি ভিন্ন প্রজাতির ২৫টি আলাদা প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন। গবেষকরা মনে করছেন, এসব প্রাণী দেড় লাখ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে ইউরোপের উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকায় বসবাস করত। সর্বশেষ তুষার যুগে এর বেশির ভাগই হিমবাহে ঢেকে গিয়েছিল। সূত্র : টেলিগ্রাফ।

অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য

Saturday, January 22, 2011

মহাস্থানগড়সংলগ্ন প্রাচীন নিদর্শন 'নেতাই ধোপানীর পাট'। এর পাশে আরেকটি অতিপ্রাচীন নিদর্শন 'গোকুল মেধ বা বেহুলা লখিন্দরের বাসরঘর'। কথিত আছে, 'নেতাই ধোপানীর পাট ছিল বেহুলা-লখিন্দর রূপকথার চরিত্র মনসা দেবীর সহচরী নেতাই ধোপানীর আবাসস্থল।

মনসার বস্ত্রাদি ধোলাইকালে বেহুলা নাকি মৃত স্বামীসহ এই ঘাটে উপস্থিত হয়ে তারই সাহায্যে মনসা দেবীকে তুষ্ট করে মৃত স্বামীর জীবন ফিরে পান।' বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের গোকুল সরকারপাড়ার ১৬০০ বছরের পুরনো সেই নিদর্শন 'নেতাই ধোপানীর পাট’-এর মাটি কেটে রাস্তা বানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন সরকার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সবুজ সরকার এ কাজের নেতৃত্ব দেন। ঢিবি খননের সময় বের হওয়ায়
পুরাকীর্তিগুলো নিয়ে গেছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন এ ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সেদিকে কোনো নজরই দেয়নি। শেষ মুহূর্তে এসে বিষয়টি নজরে এসেছে তাদের। ইতিমধ্যে মাটির ঢিবি কেটে বের করা হয়েছে চাপাপড়া পুরাকীর্তির নিদর্শন।
গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উঁচু ঢিবি কেটে এক দফা মাটি ফেলা হয়েছে পাশের নবনির্মিত রাস্তায়। এখন চলছে দ্বিতীয় দফা মাটি খননকাজ। মাটি কেটে নেওয়ার পর সেখানে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। এ স্থাপনার প্রশস্ত দেয়াল ও চওড়া ইটের প্রাচীর দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, স্থাপনাটি গুপ্ত আমলেরও আগে নির্মিত। সে হিসাবে এটি প্রায় ১৬০০ বছরের পুরনো।
স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী, লোকমান হোসেন, আমজাদ হেসেনসহ অনেকেই বলেন, জন্মের পর থেকেই তাঁরা ঢিবিটি দেখে আসছেন। অনেক আগে থেকেই এ ঢিবির মালিকানা নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে সরকার পরিবারের দ্বন্দ্ব। সেই সরকার পরিবারেরই সদস্য খোকন সরকার ও সবুজ সরকার এর আগে প্রশাসনের নেওয়া ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের সময় মাটি কেটে রাস্তা করেছেন। ওই রাস্তার ওপর এবার দ্বিতীয় দফা মাটি ফেলার জন্য আবারও তাঁরা ঢিবি কেটে নিচ্ছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা ও গোকুল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আলী আযম তোতা মিয়া বলেন, ‘এর আগে কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি আমার এলাকায় নির্মাণ করা হলেও আমাকে সেই কাজের কমিটিতে রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ সরকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে কাজ করেছেন। এ কারণে সেদিকে আমি যাইনি।’ তিনি জানান, ওই ঢিবিটি যে প্রত্নসম্পদ, সে বিষয়টি তিনি এর আগে একাধিকবার এলাকার লোকজনকে জানিয়েছেন। তার পরও নিজেদের জমি দাবি করে সেখানকার মাটি কেটে এনে রাস্তায় ফেলেছেন তাঁরা।
ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোলাইমান আলী বলেন, ‘ঢিবিটি যে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের, তা আমাকে জানানো হয়নি। এ কারণে সেখানে মাটি কাটা দেখলেও আমি বাধা দিতে যাইনি।’
পুরাকীর্তি ধ্বংস করা সম্পর্কে সবুজ সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণ করা জরুরি ছিল। এ ছাড়া ওই ঢিবিটি পৈতৃক সূত্রেই আমাদের। এর সব কাগজই আমাদের কাছে আছে। এ কারণে সেখান থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছে।’
খোকন সরকারও মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিল। সে সময় আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে জায়গাটি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত সে বিষয়ে তারা কোনো উদ্যোগই নেয়নি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যদি জায়গাটি অধিগ্রহণ করে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও মহাস্থান জাদুঘরের জিম্মাদার (কাস্টডিয়ান) নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপে ১৯২২ সালে নেতাই ধোপানীর পাটকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে উšে§াচন করা হলে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনেক প্রাচীন নিদর্শন বেরিয়ে আসত। কিন্তু চুপিসারে জঙ্গলে ঘেরা ওই পুরাকীর্তি কেটে ফেলেছে সেখানকার কিছু লোকজন।’ সেখানে মাটি কাটার বিষয়টি জানার পর তা বন্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক বদরুল আলম বলেন, সেখান থেকে যে নিদর্শনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তারা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এটি গুপ্ত আমলেরও আগে নির্মিত। প্রত্ন নিদর্শন সমষ্টি নিয়ে এ পাট গঠিত। এখানে বেশ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে। এর পশ্চিম পাশের বিশাল প্রাচীরটি প্রচীনত্বের প্রমাণ বহন করছে। ১৯৬৮ সালের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাই ধ্বংস করা যাবে না। এর পরও নেতাই ধোপানীর পাটকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘সেখানে বাধা দিতে গেলে আমাদের কর্মীদের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে যেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা পারভীন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুরার্কীতি ধ্বংস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. XNews2X - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু