তত্ত্বাবধায়কের ২০ বছর by অমিতোষ পাল

Sunday, July 3, 2011

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাস সময়কেই অন্তর্বর্তীকাল হিসেবে গণ্য করা হয় তখন; যদিও সংবিধানে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' শব্দগুলো ছিল না। সে সময় রাষ্ট্রপতির পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিল। আর ওই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে না পারার বিধান ছিল বাহাত্তরের সংবিধানেও। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে, সেখানেও অনুরূপ অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো নাম দেওয়া হয়নি। আর এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তবে প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসন শেষে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দীনকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয়েছিল ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার। তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে আগের পদে ফিরে যান মো. সাহাবুদ্দীন। পরে গেজেট প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের নাম দেওয়া হয়েছিল নির্দলীয় 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার'।
নব্বইয়ের ওই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের একটি অনির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা। এরপর নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার জন্ম দিয়ে গত ২০ বছরে পাঁচটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে। ওই পাঁচটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এ দেশে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একটি সরকার নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত মেয়াদও সম্পন্ন করতে পারেনি ওই সরকার। আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের পরিবর্তে ক্ষমতায় থেকেছে দুটি বছর।
১৯৯১ সালে বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নিতে শুরু করে তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন বিএনপি অবস্থান নেয় এর বিপক্ষে। পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় একটি ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয় বিএনপি। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে সংবিধানে যুক্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন বিচারপতি হাবিবুর রহমান। ২০০৬ সালের ১২ জুন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তিন মাসের মধ্যেই বিদায় নেন তিনি। পাঁচ বছর পর ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন বিচারপতি লতিফুর রহমান। তিনিও নির্বাচন করে ফিরে যান। ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। এই জোট সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতির চাকরির বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৫৭ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন জটিলতা। ওই ঘটনায় বেঁকে বসে আওয়ামী লীগসহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল। তারা অভিযোগ করে, তখনকার প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার উদ্দেশ্য নিয়েই বিচারপতিদের চাকরির বয়স বাড়ানো হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে বিচারপতি কে এম হাসানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর একজন খুনির আত্মীয় হলেন কে এম হাসান। এসব নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রচার ও আন্দোলন। ফল হিসেবে একসময় প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের কয়েকটি বিকল্পকে ডিঙিয়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে নেন। তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু ইয়াজউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধেও বিএনপির হয়ে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন উপদেষ্টাও তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেন। ওই সময় দেশের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি ঘোষিত নির্বাচন আর তাঁর পক্ষে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দেশে জারি হয় জরুরি আইন। অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন ফিরে যান রাষ্ট্রপতির পদে। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা : ১৯৯১ সালে প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। উপদেষ্টারা ছিলেন বিচারপতি এম এ খালেক, কফিলউদ্দিন মাহমুদ, ফখরুদ্দীন আহমদ, রেহমান সোবহান, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলমগীর এম এ কবীর, এ কে এম মুসা, ডা. এম এ মাজেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, এ বি এম জি কিবরিয়া, কাজী ফজলুর রহমান, ইমাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, এম আনিসুজ্জামান ও চৌধুরী এম এ আমিনুল হক।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৯৬ : প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। উপদেষ্টা_সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, সেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এ নাসিরউদ্দিন, মেজর জে. (অব.) আবদুর রহমান খান, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ড. নাজমা চৌধুরী ও ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০১ : প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান। উপদেষ্টা_সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী, এ এস এম শাহজাহান, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, এ কে এম আমানুল ইসলাম চৌধুরী, এম হাফিজ উদ্দিন খান, ব্রিগেডিয়ার (অব.) অধ্যাপক আবদুল মালেক, মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী ও রোকেয়া আফজাল রহমান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৬ : প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। উপদেষ্টা_ড. আকবর আলি খান, লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধূরী, সি এম শফি সামী, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সফিকুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মইনউদ্দিন আহমেদ, রুহুল আমিন চৌধুরী, ড. শোয়েব আহমেদ, বিচারপতি ফজলুল হক, আজিজুল হক, ধীরাজ কুমার নাথ, মাহবুবুল আলম, সুফিয়া রহমান ও ইয়াসমিন মুরশেদ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ : প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। উপদেষ্টা_মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, আনোয়ারুল ইকবাল, ড. চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম, ড. এ এম এম শওকত আলী, এ এফ হাসান আরিফ, মেজর জে. (অব.) গোলাম কাদের, রাশেদা কে চৌধুরী, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, তপন চৌধুরী, গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) মতিউর রহমান ও আইয়ুব কাদরী।

বিদায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই পাস হয়েছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিল। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রথমে কণ্ঠভোটে এবং পরে বিভক্তি ভোটে পাস হয় বিলটি। এ বিল পাস হওয়ায় সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত হয়েছে। পুনর্বহাল হয়েছে বাহাত্তরের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও বহাল রাখা হয়েছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ। দুই সামরিক শাসকের আমলে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম যুক্ত করা হয়েছিল সংবিধানে।
অবশ্য বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির দুই সদস্য আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ে সর্বোচ্চ আদালতও বলেছিলেন, সংবিধানকে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে পরিবর্তনের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।
সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার পর গতকাল সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদে অনুপস্থিত ছিল।
সংশোধিত সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল রাখা হলেও অন্যান্য ধর্মও পেয়েছে সমমর্যাদা ও অধিকার। ২(ক) অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, 'হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে।'
বাম দল ও সুধী সমাজের একটি অংশের দাবি থাকলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি সংশোধিত সংবিধানে। অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার বা জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনো সংগঠন করা যাবে না বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৮-এ বলা হয়েছে, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো সংগঠনও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে গতকাল শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিলের ওপর জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন স্বতন্ত্র সদস্য মো. ফজলুল আজিম। তাঁর এই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিলটির ওপর সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের হাসানুল হক ইনু, মইনউদ্দীন খান বাদল ও শাহ জিকরুল আহমেদ, ন্যাপের আমিনা আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী ও কামাল আহমেদ মজুমদার এবং স্বতন্ত্র সদস্য মো. ফজলুল আজিম। তাঁদের ৬৫টি সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি। সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায় কণ্ঠভোটে। পরে বিলটি পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বেলা ২টা ৫৩ মিনিটে বিভক্তি ভোটের ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস হয়।
'এবার পাস হলো দিনের আলোতে'
স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বিভক্তি ভোটের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মহাজোটের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান। ওই সময় স্পিকার বলেন, 'এর আগে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হয়েছে রাতের আঁধারে। আর এবার পাস হলো দিনের আলোতে।' পরে তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফ্লোর দেন।
বিপক্ষে এক ভোট
সংসদে বিলটি বিভক্তি ভোটের আগে বেলা ২টা ২৫ মিনিটে কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১টি এবং বিপক্ষে একটি ভোট পড়ে। এর আগে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধনীসহ বিলটি পাসের জন্য বিবেচনার প্রস্তাব গ্রহণকালে বিভক্তি ভোটে পক্ষে ২৮৯টি এবং বিপক্ষে একটি ভোট পড়ে। বিলটি পাসের সময় দুজন বেশি ভোট দিয়েছেন। আর তিন টেকনোক্র্যাটমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, দিলীপ বড়ুয়া ও ইয়াফেস ওসমান সংসদে থাকলেও তাঁরা ছিলেন দর্শক।
সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে। ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও গঠন করা হবে অনধিক পাঁচ সদস্যের শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা পর্যন্ত অর্থাৎ নির্বাচনী মেয়াদে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য না শুনে কোনো আদেশ দেবে না আদালত_এমন বিধান যোগ করা হয়েছে।
সংবিধানের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, তাঁর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবিধানে সংশোধনী এনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন করে অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতা দখলকে অপরাধ বিবেচনায় রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অপরাধে দোষী ব্যক্তি নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
সংশোধিত বিল অনুযায়ী সংবিধানে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশ নামে ২৩ (ক) নতুন অনুচ্ছেদ সনি্নবেশিত হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া সংসদে নারী আসন আরো পাঁচটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য
সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় আগামী দিনে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধনের অযোগ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, 'এ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহাই কিছু থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথমভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম ক-ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের অনুচ্ছেদ ১৫০-সহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোর বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোনো পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।'
বামপন্থী সদস্যদের নিয়ে জটিলতা
সংবিধান সংশোধন বিলের ওপর বিভক্তি ভোটগ্রহণের সময় মহাজোটের শরিক বামপন্থী দলগুলোর সদস্যদের নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তাদের ভোট নিয়ে টেনশন বেড়ে যায় আওয়ামী লীগের শীর্ষমহলে। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও ন্যাপের ছয় সংসদ সদস্য বিলের কয়েকটি দফায় সংশোধনী প্রস্তাব দেন। এসব প্রস্তাব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান আইনমন্ত্রী। এতে নাখোশ হন বাম নেতারা। তাঁরা সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্যরা তাঁদের বোঝান, ভোটদানে বিরত থাকলে ফ্লোর ক্রসিং হবে এবং সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে। কারণ সব বাম নেতাই আওয়াম লীগের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এ পরিস্থিতিতে বাম নেতারা দোটানায় পড়ে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর্যালোচনা শেষে তাঁরা বিভক্ত ভোটে অংশ নিতে সংসদ লবিতে যান। তবে তাঁরা তাদের সংশোধানীগুলো উল্লেখ করে ভোট দেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, পলিটব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদল, শাহ জিকরুল আলম ও ন্যাপের আমিনা আহমেদ সংবিধান সংশোধন বিলে বেশ কয়েকটি সংশোধনীর প্রস্তাব দেন। এসবের মধ্যে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং জাতি হিসেবে বাঙালি শব্দগুলো বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু আইনমন্ত্রী তাঁদের এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। কণ্ঠভোটেও এসব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভক্তি ভোট অনুষ্ঠিত হলে স্পিকার বলেন, যাঁরা সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেবেন, তাঁরা 'হ্যাঁ' লবিতে যাবেন, আর যাঁরা 'না' ভোট দেবেন, তাঁরা 'না' লবিতে যাবেন। যাঁরা ভোটদানে বিরত থাকবেন, তাঁরা সংসদের নিজ আসনে বসে থাকবেন। বিভক্তি ভোট চলাকালে নিজ আসনে বসে থেকে ভোটদানে বিরত থাকেন বাম নেতারা। এতে আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাম নেতাদের কাছে ছুটে যান তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, ফজলে রাবি্ব, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ অনেকে। তাঁরা বারবার তাঁদের ভোট দিতে অনুরোধ করেন। এ অনুরোধ বাম নেতারা প্রত্যাখ্যান করলে একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে সৈয়দ আশরাফ ও শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁরা পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। এ পর্যায়ে অ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি নিয়ে বাম নেতাদের বোঝাতে থাকেন। পরে তাঁরা সংসদ লবিতে গিয়ে ভোট দেন।
সংবিধান সংশোধনের জন্য গত বছরের ২১ জুলাই সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারপারসন করে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। গত ৮ জুন ৫১টি সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে বিশেষ কমিটি। এ সুপারিশের আলোকে প্রস্তুত করা বিলে ২০ জুন মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি ২৯ জুন সংসদে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন।
এ বিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে যুক্ত করার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

মানুষের গ্রাস নিয়ে কাউকে চালবাজি করতে দেব না

Thursday, February 10, 2011

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'যত দিন ক্ষমতায় আছি, মানুষকে খাবারের কষ্ট করতে দেব না। প্রয়োজনে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করব।' মিল মালিক ও আড়তদারদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'যারা সাধারণ মানুষের গ্রাস নিয়ে চালবাজি করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের সব মিল মালিক ও আড়তদারের তালিকা আমার কাছে রয়েছে।

তাদের কাছে কত মজুদ আছে, এরা কী করে-না করে, কোন পন্থী_সে তথ্যও সংগ্রহ করছি।' এ সময় মজুদদার আইন পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাসদের হাসানুল হক ইনুর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আরো বলেন, খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার পর এত দাম বাড়ার কথা নয়। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, তাদের কারসাজি রয়েছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে জিনিসপত্রের দাম কমে_এ দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আওয়ামী লীগ এখন ৩৫-৩৬ টাকায় মোটা চাল খাওয়াতে পারছে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে মানুষকে ৮০-৯০ টাকায় চাল খেতে হতো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওরা ১০ টাকার চাল ৪০ টাকা করেছে। বাড়ানোই ওদের অভ্যাস। আর আমরা কমাই।'
পুঁজিবাজার দ্রুত পড়ে যাওয়াটা সত্যিই অস্বাভাবিক পুঁজিবাজারের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পুঁজিবাজারের ঘটনায় কিছু চক্র খেলা করছে, সন্দেহ নেই। আমরা তদন্ত করছি। পুঁজিবাজার কখনো উঠবে, কখনো পড়বে। এটাই স্বাভাবিক। তবে এত দ্রুত পড়ে যাওয়াটা সত্যিই অস্বাভাবিক।'
শেয়ার ব্যবসায়ীদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার পড়ে যাবে এটা তারা কিভাবে জানল? বাজার পড়ে যাওয়ার পর ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে যাওয়া, ভাঙচুর চালানো ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা দেখে সত্যিই সন্দেহ জাগে। কখন ব্যানার হলো? ভেতর থেকে কারা কী খেলছে?'
পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, শেয়ারবাজারে যারা কেনাবেচা করতে যাবে তাদের এই ঝুঁকি নিয়েই যেতে হবে_কখনো কমবে, আবার কখনো বাড়বে। দাম কমলে সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করা ঠিক হবে না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা উচিত। শেয়ারবাজার নিয়ে নিজের অনভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি শেয়ারবাজার ততটা বুঝি না।'
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে যা যা করার দরকার, সরকার তা করছে। একটা তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সে কারণে অনেক কথা বলার থাকলেও বলা ঠিক হবে না। তাই এখন বললাম না। যা করার আমরা করে যাচ্ছি। কেন এমন হলো তা খতিয়ে দেখছি। কারা ভাঙচুর করল, এগুলোও খুঁজে বের করতে হবে।'
২০০৮ সালে তাঁর নির্বাচনী বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দল অপপ্রচার চালাচ্ছে_এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তারা প্রচারণা চালাচ্ছে, আমরা নাকি নির্বাচনের আগে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলেছি। ওরা (বিএনপি) যখন চালের দাম ১৮-২০ টাকায় নিয়ে গিয়েছিল, ছিয়ানব্বই সালে সেটাকে ১০ টাকায় নিয়ে আসার কথা বলেছিলাম। ক্ষমতায় এসে আমরা পাঁচটি বছর চালের দাম ১০ টাকায় রেখেছি। পরে তারা ক্ষমতায় এসে সেই চাল ১০ টাকা কেজি ধরে রাখতে পারল না কেন? জনগণের কাছে তার জবাব দিতে হবে। তারা ১০ টাকা কেজি ধরে রাখতে পারলে তো এখন মানুষকে ৩৫-৩৬ টাকায় চাল খেতে হতো না। মানুষকে আজ কষ্ট পেতে হতো না।'
চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খেলা চলছেই_মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় চালের দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা কেজি। আমরা তা ১৮-২০ টাকায় নামিয়ে আনি। পরে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যের কথা চিন্তা করে ২৫ টাকা করি। আমরা এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। বেশি দামে চাল কিনে মানুষকে কম দামে খাওয়াচ্ছি।'
খাদ্যশস্যের বর্তমান মজুদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মজুদ ঠিক রাখার লক্ষ্যে ভিয়েতনাম থেকে দুই লাখ, থাইল্যান্ড থেকে দুই লাখ, ভারত থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করছি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৪ দশমিক ৩৫ টন গম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। মিয়ানমার ও রাশিয়া থেকে 'সরকার টু সরকার' চাল ও গম আমদানির আলোচনা চলছে। বর্তমানে আমাদের আট লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে। দুই লাখ মেট্রিক টন বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে। জাহাজীকরণেও কিছু রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২-১৪ লাখ টন চাল ও গম মজুদ হবে।"
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে সংসদ নেতা জানান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মূল্য পরিস্থিতি এবং অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন রপ্তানিকারক দেশগুলোতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিবেচনায় রেখে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বন্দরের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টকহোল্ডার যথাক্রমে ব্যবসায়ী সংগঠন, এফবিসিসিআই, পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে যৌথ ও পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মূল্য নির্ধারণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করছে। টিসিবির আইনি কাঠামো সংশোধন, জনবল বৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিও ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সদস্যপদ বাঁচাতে সংসদে যেতেই হবে খালেদা জিয়াকে

Tuesday, January 25, 2011

নবম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বসছে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সংসদে ভাষণ দেবেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আজ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে না।

তবে চলতি অধিবেশনে যোগ না দিলে টানা (একাদিক্রমে) ৯০ দিন অনুপস্থিতির জন্য সংসদ সদস্যপদ বাতিলের সাংবিধানিক বিধির ফাঁদে পড়বেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া সর্বশেষ গত বছরের ৪ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। এরপর টানা ৫০ কার্যদিবস তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। আরো ৪০ দিন অনুপস্থিত থাকলে সংবিধানের ৬৭(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। এ বিধিতে আছে-‘কোন সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকেন।’ সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে গতকাল সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি অধিবেশন ৪৪ দিন চলবে। ফলে খালেদা জিয়া এ বিধির ফাঁদে পড়বেন।
জানা যায়, অধিবেশন ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৪০ ঘণ্টা আলোচনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি হয়ে যাবে। ১ ফেব্র“য়ারি থেকে আবার অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৪ কার্যদিবস চলবে।
গতকাল সোমবার বিকেলে সংসদ ভবনে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংসদের প্রতি কার্যদিবস বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে প্রথম দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।
সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের যোগ না দেওয়া সম্পর্কে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরকে দুষছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এমপি বলেন, ‘সংসদে যোগ
না দেওয়ার কথা আমরা বলিনি। আমরা চাই সংসদ কার্যকর হোক। এ জন্য নজিরবিহীনভাবে আমরা নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সংসদে বসা নিয়ে সরকারি দলের আক্রোশের শিকার হয়েছি। যত নোটিশ দিয়েছি তার একটিও আলোচনার জন্য আমলে নেওয়া হয়নি। আমাদের নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারসহ আমাদের নেতা-নেত্রীর নাম ধরে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হয়। হামলা-মামলা চলছে। এ অবস্থায় সংসদে যোগ দিয়ে তাদের গালাগাল শুনে জাতির কোনো লাভ আছে বলে মনে করি না। যদি গালাগাল বন্ধ করা হয়, সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশ ও জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হয়, মাইক বন্ধ না করা হয়-তাহলে অবশ্যই আমরা সংসদে যাব।’
বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, বিএনপি সংসদকে কার্যকর করতে সবসময় সংসদে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু এর আগে সরকারকে সংসদের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। সংসদের চিফ হুইপ আবদুস শহীদের টেলিফোন করার কথা স্বীকার করে ফারুক বলেন, সংসদে যোগ না দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি আগের সিদ্ধান্তেই অটল। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় বর্তমান মহাজোট সরকার দুই বছর যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে, সেভাবে বিএনপিকেও সংসদে নিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর বলতে পারব-সংসদে ফিরে যাব কি না।
অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত রবিবার সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুককে টেলিফোন করেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আবদুস শহীদ বলেন, সংসদের পরিবেশ ঠিক আছে, আশা করি বিরোধী দল অধিবেশনে যোগ দিয়ে সংসদকে কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে চলতি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়েই চালু হচ্ছে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা। এ জন্য সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় একটি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে সংসদের কার্যক্রম এ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচারিত হবে। এ ছাড়া অধিবেশন বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ চ্যানেলের সম্প্রচার কার্যক্রম চলবে।
বিএনপির একটি সূত্রে জানা যায়, সংসদে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে দলের নেতারা আলোচনা করছেন। কারণ বিরোধী দলের নেতাসহ কয়েকজনের সদস্যপদ বহাল রাখতে হলে এ অধিবেশনে বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দিতেই হবে।
জানা গেছে, নবম সংসদের ১৭৪ কার্যদিবসের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্যরা ছিলেন ৪৬ কার্যদিবস আর বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া ছিলেন মাত্র পাঁচ দিন। অষ্টম অধিবেশনে যোগ না দিলে টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকার কারণে খালেদা জিয়াসহ দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাঁদের সদস্যপদ হারাবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির রেকর্ডে বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ গত বছরের ৪ এপ্রিল সংসদে যোগ দিয়েছিলেন। এর ফলে গত ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তম অধিবেশন পর্যন্ত সংসদে তাঁর টানা অনুপস্থিতি ৫০ কার্যদিবস। এ ছাড়া বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু (নোয়াখালী-৩) সর্বোচ্চ ৫৭ দিন সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ার (বরিশাল-৫) ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (কুমিল্লা-৩) টানা ৫৩ দিন সংসদ বর্জন করে চলেছেন। চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা টানা ৫১ দিন সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অষ্টম অধিবেশনের জন্য এখন পর্যন্ত মোট ১১টি সরকারি বিল এসেছে। এর মধ্যে কমিটিতে বিবেচনাধীন আছে ৯টি। পাসের অপেক্ষায় আছে একটি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় আছে একটি বিল।

সংসদের ২ বছরঃ ১৩০ বিলের ৯১টি পাস বিরোধী দল ছাড়া

Sunday, January 23, 2011

আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার তৃতীয় বর্ষে পড়ছে নবম জাতীয় সংসদ। গত দুই বছরে নবম সংসদে সাতটি অধিবেশনে পাস হয়েছে ১৩০টি বিল। এগুলোর ৯১টিই পাস হয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনুপস্থিতিতে।

সংসদের কার্যপ্রবাহ থেকে জানা যায়, যেসব (৩৯টি) বিল পাসের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, সে সময় তুমুল বিতর্কে সংসদ ছিল প্রাণবন্ত। এ কারণে প্রতিটি বিল পাস হতে সময় লেগেছে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি। বিলের ওপর বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও রাশেদা বেগমের আনা সংশোধনী প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। তবে বেশি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের।
জানা যায়, প্রথম অধিবেশনে ৩২টি, দ্বিতীয় অধিবেশনে ২৩টি, তৃতীয় অধিবেশনে ১১টি, চতুর্থ অধিবেশনে ২৩টি, পঞ্চম অধিবেশনে ২৪টি, ষষ্ঠ অধিবেশনে ১৩টি এবং সর্বশেষ সপ্তম অধিবেশনে চারটি বিল পাস হয়েছে। এসব বিলের ওপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সদস্যরা এক হাজারের বেশি নোটিশ দিয়েছেন। ফজলুল আজিম দিয়েছেন দুই শতাধিক নোটিশ। সরকারি দলের সদস্যদের দেওয়া নোটিশের সংখ্যা ১০০-এর বেশি নয়।
জানা গেছে, যে ৯১টি বিল পাসের সময় বিএনপি ও তাদের জোটের সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন, সেসব বিলসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় সদস্যদের নোটিশের ৯০ শতাংশ উত্থাপিত হয়নি। এমনও হয়েছে, বিরোধী দল সংসদে থাকলেও নোটিশদাতা সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এসব বিলের ওপর সংসদে তেমন আলোচনা হয়নি। এসব বিলের দফা উচ্চারণ করতে স্পিকারের যতটুকু সময় লেগেছে, সেই সময়ের মধ্যে বিলগুলো পাস হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, এ রকম প্রতিটি বিল পাস হতে সময় লেগেছে গড়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট।
এ অবস্থায় আগামীকাল বিকেল তিনটায় বর্তমান সংসদের অষ্টম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরুর পর অতীতের মতো বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম দুই বছরেও সংসদ সত্যিকার অর্থে কার্যকর হতে পারেনি। সংসদ বর্জনের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বিরোধী দল। বেশির ভাগ সময় তাদের অনুপস্থিতির কারণে সংসদ ছিল একপেশে।নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা মহাজোটও ছোট আকারের বিরোধী দলকে সংসদে ধরে রাখতে পারেনি।
স্পিকার আবদুল হামিদ এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, বিরোধী দল সংসদে থাকলে সংসদ আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর হতো, এটা ঠিক। তবে বিরোধী দল সংসদে না এলেও সংসদীয় কমিটির সভায় তাদের সদস্যরা নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিলগুলো প্রস্তুত করছেন। অধিবেশন কক্ষে তাঁরা সশরীরে না এলেও প্রশ্ন জমা দিচ্ছেন এবং মন্ত্রীরা সেসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। তাই এ সংসদকে অকার্যকর বলার সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, আইন প্রণয়নে বিরোধী দল আরও সক্রিয় হলে নিশ্চয়ই আইনগুলো আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। তবে বিলের ওপর সাংসদদের কম অংশগ্রহণের বিষয়টি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ এম কে আনোয়ার বলেন, বিলের ওপর বিরোধী দল আলোচনা করলে সংসদও প্রাণবন্ত হতো, আইনগুলোও নির্ভুল হতে পারত।
বিরোধী দলের সদস্যদের গড় উপস্থিতি ৪৪ দিন: গত সাত অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ১৭৪টি। এর মধ্যে বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের সাংসদেরা গড়ে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ দিন। দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধিবেশনের পুরোটাই অনুপস্থিত ছিলেন তাঁরা। পঞ্চম অধিবেশনে তাঁরা যোগ দেন এক দিন। প্রথম অধিবেশনে যোগ দিলেও টানা ৬৩ কার্যদিবস অনুপস্থিতির পর গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল সংসদে ফিরে কয়েক দিন অধিবেশনে যোগ দেয়। গত বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবস থেকে তারা টানা ৪৮ দিন অনুপস্থিত রয়েছে।
দু্ই বছরেও বিরোধী দল তাদের উপনেতা নির্বাচন করেনি। ফলে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতিতে তাদের বিকল্প নেতা থাকেন না। তবে বিরোধী দলের সাংসদেরা অধিবেশনে প্রশ্ন, নোটিশ, বিলের ওপর সংশোধনীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব জমা দিচ্ছেন। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে এসব প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্যরা। তবে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদীয় কমিটির সভায় নিয়মিত অংশ নেন। সংসদের যেকোনো আইন প্রণয়নকাজের সঙ্গে তাঁরা কমিটির মাধ্যমে তাঁদের মতামত দিচ্ছেন। সংসদকেন্দ্রিক বিদেশ সফরেও যাচ্ছেন তাঁরা।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, স্বতন্ত্র ফজলুল আজিম এবং মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদেরা সংসদে নিয়মিত যোগ দেন।
নবম সংসদে এ পর্যন্ত সব কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৫ আসনের এ এ মারুফ সাকলান। উপস্থিতির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে স্পিকার আবদুল হামিদ (১৬৭ দিন)।
শেখ হাসিনা ১২৬ দিন, খালেদা জিয়া পাঁচ দিন: সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সপ্তম অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন ১২৬ দিন। আর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন পাঁচ দিন, যা বর্তমান সংসদে সর্বনিম্ন উপস্থিতি। তবে অষ্টম সংসদের সংসদ নেতা থাকাকালে তিনি ৩৭৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১৯৫ দিন উপস্থিত ছিলেন। আর ওই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন ৪৫ দিন।
নবম সংসদে অনুপস্থিতির দিক থেকে খালেদা জিয়ার পরে রয়েছেন কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (১০ দিন)।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আইন অনুযায়ী টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে যে কারও সংসদ সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘৩০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলেই সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে এই আইন করব।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই অঙ্গীকার আমরা এখনো অস্বীকার করি না। আমরা তো সংসদে যাওয়ার ও সংসদ কার্যকর করার পক্ষে। কিন্তু সরকারি দলের ব্যর্থতার কারণে সেটি না হলে এর দায়ভার সরকার পক্ষেরই।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংসদের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, বিরোধী দল ছোট হলেও তাদের ছাড়া সংসদ কার্যকর বলা কঠিন। তাই অনেক কাজ করলেও গত দুই বছরে সংসদ কার্যকর হয়েছে, এটা খুব করে বলা যাবে না। তিনি বিএনপির সংসদে না যাওয়ার সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলের সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন জনগণের স্বার্থেই।
ওয়াকআউট: বিএনপি গত সাতটি অধিবেশন পর্যন্ত ওয়াকআউট করেছে ৫২ বার। সর্বশেষ গত বাজেট অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে ওয়াকআউটের পর তারা আর অধিবেশনে যোগ দেয়নি। অষ্টম সংসদে তৎকালীন বিরোধী দল ৯৫ বার ওয়াকআউট করে।

অর্থ জালিয়াতির কথা স্বীকার করলেন সাবেক ব্রিটিশ এমপি

Tuesday, January 11, 2011

ব্রিটেনের একজন এমপি প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি হলেন লেবার পার্টির সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য এরিক এলসলি।

বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতে তিনি ১৪ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ জালিয়াতি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। সোমবার সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এলসলির কৌসুলি উইলিয়াম কোকার কিউসি বলেন, পার্লামেন্ট সদস্যদের ব্যয়ের খাত থেকে প্রতারণামূলকভাবে ১৪ হাজার পাউন্ড নেয়ার করার কথা স্বীকার করেছেন এলসলি। তবে এর আগে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন ওই এমপি। খবর বিবিসি ও টেলিগ্রাফের।

সূত্র জানায়, গত বছর মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে বার্নসলি সেন্ট্রাল থেকে পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন এলসলি। কয়েকমাস পর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পর লেবার পার্টি তাকে দল থেকে বহিস্কার করে। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পার্লামেন্টারি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কাউন্সিল ট্যাক্স, রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার এবং দ্বিতীয় বাসভবনের পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের কথা বলে তিনি অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। এ জালিয়াতির কারণে ১২ মাস বা তার বেশি মেয়াদে সাজা হলে যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইনে সংসদ সদস্য পদের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন তিনি। তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, তার এখনই সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার তিনি আর পেতে পারেন না।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. XNews2X - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু