Home » , , » বিএনপির দুর্বলতায় ফসকে যায় ইস্যু

বিএনপির দুর্বলতায় ফসকে যায় ইস্যু

Written By Unknown on Friday, February 4, 2011 | 11:28 PM

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সামনে ইস্যু আসছে আর যাচ্ছে। কিন্তু আন্দোলন আর দানা বাঁধছে না। দলে কোন্দল এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বহীনতার কারণেই কোনো ইস্যু কাজে লাগাতে পারছে না দলটি। এ ছাড়া ছোটখাটো ইস্যুতে রাস্তায় নামলেও পুলিশের সামনে দাঁড়াতেই পারছে না দলের নেতা-কর্মীরা।

সর্বশেষ আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের ইস্যুও হাতছাড়া হয়ে গেছে সরকার এ কর্মসূচি থেকে সরে আসায়। আগামী সোমবারের হরতাল কর্মসূচি কতটুকু সফল করা যাবে, তা নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যেই রয়েছে সংশয়। এ জন্য দলের নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইস্যু থাক আর না থাক, সেটা বড় কথা নয়, দলের ভেতরে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দুর্বলতা আছে, তা খুঁজে বের করে অচিরেই সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, সোমবারের দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফল করাই এখন দলের নেতা-কর্মীদের মূল দায়িত্ব। হরতাল সফল করতে দলীয় নেতাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত বৈঠক হচ্ছে। হরতালের পর দলের দুর্বলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সরকারের আমলে গত দুই বছরে বিএনপি ইতিমধ্যে তিনটি হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি বাতিলের দাবিতে গত বছরের ২৭ জুন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করে দলটি। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগে গত ১৪ নভেম্বর দেশব্যাপী আরেকটি হরতাল দেয় তারা। এ হরতালে বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগ এনে তৃতীয় হরতালটি ডাকা হয় ৩০ নভেম্বর। তবে তিনটি হরতালের কোনোটিই সর্বাত্মক সফল হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, আগের হরতালগুলোতে বিএনপির অনেক নেতা বাসায় বসেই খোঁজ-খবর নিয়েছেন। রাস্তায় পিকেটিং ছিল না। হরতালের দিন মাঠে না থাকায় দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতার ওপর ক্ষুব্ধ হন দলীয় চেয়ারপারসন। এ পরিস্থিতিতেই আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি রয়েছে দলটির। এ হরতালের দিনও দলের সব নেতা-কর্মী মাঠে থাকবে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে হরতাল সফল করতে শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও আটটি সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হরতালের প্রতি সমমনা দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকলেও তাদের অনেকেরই মাঠে না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এর আগে বিএনপির হরতালের প্রতি সমমনা দলগুলোর সমর্থন ছিল, কিন্তু কাউকে মাঠে পাওয়া য়ায়নি।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঘটা করে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হলেও মাঠে সংগঠনের অবস্থা এখনো নাজুক। দলীয় কোন্দল আর চরম বিশৃঙ্খলায় ২৩ জেলায় এখনো কাউন্সিল হয়নি। অধিকাংশ জেলায় কাউন্সিল ছাড়া কমিটি গঠন করা হলেও কোন্দলের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তৃণমূল নেতাদের চাপা ক্ষোভ ক্রমেই প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। ২০০৯ ও ২০১০ সালে বছরজুড়ে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েও দল গোছাতে পারেনি বিএনপি। এবারের পৌর নির্বাচন ও উপনির্বাচনে বিএনপির অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে গেলেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল। তবে পৌর নির্বাচনের বিজয়ের রেশ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধরে রাখতে হলে বিএনপিকে সাংগঠনিক অবস্থা আরো জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতারা।
২০০৯ সালে বছরজুড়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও অধিকাংশ জেলায় জোড়াতালি দিয়ে কাউন্সিল করা হয়েছে। নামমাত্র কাউন্সিল দেখিয়ে কমিটি করা হয়েছে। কাউন্সিল দেখানো হলেও অনেক জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। কোথাও কোথাও পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ কেন্দ্রে পৌঁছলে বেশ কিছু জেলার কমিটি স্থগিত রাখা হয়। এক বছর পার হলেও ওই কমিটির ব্যাপারে বিএনপি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এসব কারণে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হলেও দলের মাঠ সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে না।
জাতীয় কাউন্সিলের আগে দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক ইউনিটের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারেনি বিএনপি। বিশেষ করে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নিজের এলাকা মানিকগঞ্জে কাউন্সিল হচ্ছে না ১০ বছর ধরে। খোন্দকার দেলোয়ার ও হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এবার জেলার কাউন্সিল করার জন্য আহ্বায়ক করা হয়েছিল অ্যাডভোকেট মোকসেদুর রহমানকে। উভয় পক্ষের নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হলেও খোন্দকার দেলোয়ার তা গ্রহণ করেননি। ফলে কাউন্সিলের বিষয়টি ঝুলে আছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এদিকে ঢাকা জেলার কমিটি গঠন করা হলেও তা নিয়ে দল বিভক্ত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা জেলার সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বহিষ্কৃত হন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঢাকা জেলার সভাপতি নির্বাচিত হন এম এ মান্নান। ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়েও চলছে দেনদরবার। এখানে একদিকে আছেন সাদেক হোসেন খোকা, অন্যদিকে মির্জা আব্বাস। জানা যায়, নগরীর এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরোধের কারণেই নগর কমিটি ঘোষণা করতে পারছেন না বিএনপির চেয়ারপারসন।
সারা দেশে ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে যেসব জেলায় কাউন্সিল হয়নি তার মধ্যে আছে ঝালকাঠি, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, গাজীপুর, নোয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, রংপুর, চাঁদপুর, নওগাঁ, শরীয়তপুর, ঢাকা জেলা, ঢাকা মহানগর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, পিরোজপুর, বরিশাল (দক্ষিণ), বরিশাল মহানগর, খুলনা জেলা ও নড়াইল জেলা। তবে বিএনপির অবস্থা যে করুণ, তা মানতে চান না দলের অধিকাংশ নেতা। তাঁরা মনে করেন, ভবিষ্যতে বিএনপির অবস্থা ভালো হবে। সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে যাবে এই দল।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিলের পর বিএনপি এক বছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক অবস্থা আরো শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে সরকার যেভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীর ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি-নির্যাতন করেছে। এর মধ্যেও বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। বিশেষ করে পৌরসভা ও উপনির্বাচনের পর বিএনপির মধ্যে প্রত্যয় বাড়ছে। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে বিএনপি-কে চাঙ্গা করা হবে বলে মন্তব্য করেন দলের সিনিয়র এ নেতা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। ‘ইস্যু ধরে রাখতে পারছি না, তা ঠিক নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দলের একটা কৌশল থাকে, বিএনপিরও একটি কৌশল আছে। আর আন্দোলন করলেই যে দলের অবস্থা ভালো হবে, তা ঠিক নয়। পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর দলের অনেক কিছু নির্ভর করে। তার প্রমাণ হলো বিএনপি আন্দোলন না করেও আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ক্ষমতায় ছিল।
খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, ‘দলের কৌশলের ওপর নির্ভর করছে ইস্যু ধরে রাখব কি রাখব না। তবে ভবিষ্যতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা আরো জোরদার হবে এবং বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাবে।’

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. XNews2X - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু