কী ভাবছে নাগরিক সমাজ : সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক- এ নির্বাচন বৈধতা পাবে না by হোসেন জিল্লুর রহমান

Sunday, January 5, 2014

আজ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ নয়, আমার বিবেচনায় তিনটি কারণে বৈধতাই হারিয়েছে। প্রথমত, এই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এটা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচন এবং তৃতীয়ত, এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সবই হারিয়েছে। ফলে আজ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই বৈধতা হারিয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার বিষয়টি। সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কারণ, সাধারণ মানুষই এর শিকার হয় এবং এটা তাদের ওপর দিয়েই যায়। নির্বাচনকে ঘিরে এই সহিংসতা পরিহার করতে হবে।
নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, এই নির্বাচন কার্যত আমাদের ভোটাধিকার হরণ করছে। এই নির্বাচনের ব্যাপারে নাগরিকদের অসম্মতি রয়েছে এবং বিষয়টি পরিষ্কার। এত কিছুর পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষতিকর দিকটি হচ্ছে, এর ফলে সার্বিকভাবে সমাজের মধ্যে একটা অসহায়ত্ব বোধ তৈরি হয়েছে। এই বোধ যদি সমাজের গভীরে চেপে বসে তবে তা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি মনে করি, ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সব পর্যায়েই দৃশ্যমান প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। এই প্রতিবাদ হওয়া উচিত অহিংস ও নৈতিক প্রতিবাদ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য কেউ এতে শামিল হতে পারেন বা এ ধরনের প্রতিবাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন।
এই নির্বাচন বৈধতা না পাওয়ায় শুধু রাজনৈতিকভাবেই যে দেশে এর প্রভাব পড়বে তা নয়, এর অর্থনৈতিক প্রভাবও হবে গুরুতর। এই রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশ এক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও এর প্রধান শিকার হবে দেশের সাধারণ জনগণ।
হোসেন জিল্লুর রহমান: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।

সমঝোতার ভিত্তিতে টেন্ডার ভাগাভাগির মতো by হোসেন জিল্লুর রহমান

Sunday, December 15, 2013

আগামী ৫ জানুয়ারি যে সাধারণ নির্বাচনের জন্য দিনক্ষণ নির্ধারিত আছে, সেই নির্বাচন ঘিরে প্রহসনের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এটা অনেকটা সমঝোতার ভিত্তিতে একাধিক ঠিকাদারের মধ্যে টেন্ডার ভাগাভাগির মতো হয়ে গেছে।

এ ধরনের নির্বাচন সরকারের বৈধতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। দেশে রাজনৈতিক অঙ্ক আরও ঘনীভূত হবে। বর্তমান সরকার এখনো বৈধতার প্রশ্নে চূড়ান্ত সংকটে পড়েনি। কিন্তু যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে, তাতে এই নির্বাচনের পর সব মহল থেকে সরকারের বৈধতার প্রশ্ন উঠবে।
সেদিক বিবেচনায় আমরা বলতে পারি, বর্তমানে যে সংকট চলছে, তার চেয়ে আরও বড় সংকট ঘনিয়ে আসছে। সেই সংকট কীভাবে নিরসন করা যাবে, সে বিষয়ে বোধ হয় দেশবাসীর প্রস্তুত হওয়া দরকার।
এ ধরনের একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনও প্রশ্নবিদ্ধ হলো। তাদের অধীনে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচন দেশবাসী মানবে কি না, সে প্রশ্ন এখন বড় হয়েই দেখ দিয়েছে।
আমাদের দেশে আশির দশকে অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসনামলে দেখা গেছে ভোটারবিহীন নির্বাচন। অর্থাৎ নির্বাচন হবে, কিন্তু তাতে ভোটারদের প্রয়োজন নেই। এখন আবার আশির দশকের সেই বাস্তবতা ফিরে এসেছে। এবার যেটা হচ্ছে, সেখানেও ভোটারদের প্রয়োজন থাকছে না। বরং নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এবার আরও একধাপ অনিয়মের দিকে এগিয়েছে, যেখানে কার্যত প্রার্থী থাকাও দরকার হচ্ছে না।
এবারের নির্বাচনে কে কোথায় প্রার্থী থাকবেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতবেন, নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসবেন—এসবই নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের নামে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে!
-সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. XNews2X - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু