আমি কারও লুঙ্গি ধরে টানাহেঁচড়া করিনি by ওয়েছ খছরু

Monday, February 3, 2014

আমি নির্দোষ। ওরা আমার চরিত্রে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিলো। আমি কোনও পাপ করিনি। কারও লুঙ্গি ধরে টানাহেঁচড়া করিনি। কোনও ছবিও তুলিনি।’
-একদিনের হাজতবাস শেষে গতকাল বেরিয়ে এসে কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের এ কথা জানালেন সিলেটের গ্রেপ্তার হওয়ার সিটি কাউন্সিলর দিবা রানী দে বাবলী। এ সময় তাকে বরণ করতে কারা ফটকে অর্ধশতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দিবা রানী বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার সম্পত্তি দখল করতে একটি সিন্ডিকেট পুলিশকে দিয়ে হেনস্তা করিয়েছে। ওরা আমার সম্পত্তি দখল করতে চায়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর হয়েও কেবলমাত্র সম্পত্তির কারণে সাজানো মামলায় হাজতে যেতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির রাজনীতি করি। এ কারণে ওই চক্র বিরোধী চক্রকে দিয়ে নাটক সাজিয়েছে।’ কারাগার থেকে বেরিয়ে দিবা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিচার জনতার আদালতে দিলাম।’

সিলেটে সরকারদলীয় ভূমিখেকোদের ছোবলে পড়ে কারাগারে যেতে হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর দিবা রানী দে বাবলীকে -এমন অভিযোগ তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের। গ্রেপ্তার হয়ে একদিন কারাভোগের পর রোববার সন্ধ্যায় মুক্তি পেয়েছেন তিনি। সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ তার স্বজনরা কারা ফটকে উপস্থিত হয়ে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর যতরপুরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ। একই এলাকার আবদুল মতিনের দায়ের করা মামলায় (নং-২৯(১)১৪) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাওলানা আবদুল মতিনকে উলঙ্গ করে অশ্লীল ছবি তোলার দায়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জানায় পুলিশ।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর দিবা রানী দে-র বর্তমান বাসস্থানের বাসা ও ভূমি নিয়ে রয়েছে বিরোধ। সিলেট নগরীর যতরপুরের শ্রীশ্রী বিশ্বেশ্বর দেবমন্দিরের ওই ভূমিতে থাকেন দিবা রানীর স্বামী মনীন্দ্র রঞ্জন দে-র পরিবার। এ ভূমি নিয়ে রয়েছে মনীন্দ্র দে-র একাধিক মামলা। শ্রীশ্রী বিশ্বেশ্বর দেবমন্দিরের ওই ভূমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় নিয়ে একটি মহল দখল করে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। মনীন্দ্র রঞ্জন দে তার পিতার ক্রয় করা ভূমি দাবি করে বসবাস করে আসছেন এবং বর্তমান সরকারের  সঙ্গে রয়েছে তার একাধিক দেওয়ানি ও অর্পিত আইনের মামলা রয়েছে। মনিন্দ্র রঞ্জন দে-র অভিযোগ, সরকারদলীয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র তার স্বত্ব-দখলীয় বাসা ও দেবমন্দির দখলে নিতে উঠে পড়ে লাগে। দু’বছর আগে এ দলের ভূমিখেকোরা ছাত্রলীগের কর্মী তিতাসকে দিয়ে তার বাড়িঘরে হামলা করে তাদের উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়। সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলকে দিয়েও আদালতে একটি মামলা করানো হয়। ভূমিসংক্রান্ত মামলাগুলো নিম্ন ও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। এ অবস্থায় অতি সমপ্রতি সরকারদলীয় একটি ভূমিদস্যুচক্র সংখ্যালঘু মনীন্দ্র পরিবারকে উচ্ছেদে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে বলে দাবি করেন মনিন্দ্র রঞ্জন। আর এ অংশ হিসেবে গত ২৭শে জানুয়ারি জনৈক আবদুল মতিনকে দিয়ে তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা করায়। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে দিয়ে মনীন্দ্রর স্ত্রী দিবা রানীকে গ্রেপ্তার করানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, দিবা গ্রেপ্তারের পর সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়। দিবা রানীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ-এইচআরসিবিএম। গতকাল জিন্দাবাজারস্থ জেলা কার্যালয়ে সভায় বক্তারা বলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে শুক্রবার থেকে আন্দোলন শুরু করা হবে। বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান অতীন্দ্র রঞ্জন দে, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন রঞ্জন দাস, নারীনেত্রী পিংকি দেব নাথ। এইচআরবিসিএম-এর সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, একটি চক্র দিবাকে হয়রানিকে করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি দাবি করেন, দিবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।

ভাড়াটিয়া ঘাতকরাই খুন করে সোহানকে by ওয়েছ খছরু

Monday, January 27, 2014

ভাড়াটিয়া খুনিরাই কুয়ারপাড়ের ভিআইপি রুটে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে কলেজ ছাত্র সোহান ইসলামকে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একই এলাকার পিচ্চি শাকিল, টাইগার জামাল, আমির,
টিপু ও গুলজারের ছোটভাই রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করে। আর এই খুনের খবর জানতো লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনির। আগে থেকেই তার হাতে গুলজার ও কামাল পক্ষের লোকজন মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েছিল এবং সুর চিৎকার শুনলেও পুলিশ যেন নীরব থাকে সে ব্যাপারে বলেও দেয়া হয়েছিল। গতকাল নিহত কলেজ ছাত্র সোহান ইসলামের পরিবারের একাধিক সদস্য এসব কথা বলছিলেন আর বিলাপ করছিলেন। এ ঘটনার পর নির্বাক হয়ে গেছে খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বোন নুশরাত জাহান স্বর্ণা। সোহানের বোন স্বর্ণা সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের অগ্রগামী সরকারি কিন্ডার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার বিকাল ৩টায় স্বর্ণাকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিল সোহান। কুয়ারপাড় পয়েন্টে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পিচ্ছি শাকিল, টিপু, আমির, টাইগার জামাল ও রিপন সোহানের মোটরসাইকেল থামায়। এ সময় তারা সোহানের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে শিশু স্বর্ণা পার্শ্ববর্তী পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে এক পুলিশ সদস্যের পায়ে ধরে ভাইকে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন। এই ফাঁকে খুনিরা নির্বিঘ্নে এলোপাতাড়ি কোপায় সোহানের শরীর। তার উরু ও পায়ে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সোহানের। ঘটনার নেপথ্যে কাহিনীও তুচ্ছ। শুক্রবার বিকালে সোহানের সঙ্গে একই এলাকার কামালের কথাকাটাকাটি পরে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় কামাল আহত হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর কামাল ও তার পক্ষের লোকজন বলে বেড়াতো তারা বদলা নেবে। নিহতের পরিবার জানান, তারা সোহানকে হত্যা করে এর বদলা নিয়েছে।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. XNews2X - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু